জাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

মাওলানা আব্দুল করিম ইবনে মছব্বির •

জাকাতের আলোচনা এর আগেও করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ফলমূলেরও জাকাত দিতে হবে। কিন্তু আমরা প্রায়শ তা দিই না বা এ সম্পর্কে আমাদের অনেকে তেমন কিছু জানেনও না।

মহান আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, ‘এবং তিনিই মাচাযু্ক্ত (কাণ্ডবিহীন) ও মাচাবিহীন (কাণ্ডবিশিষ্ট) বৃক্ষ-লতাসংবলিত বাগানসমূহ, খেজুরগাছ, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য, জয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন—যেগুলো পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ ও সাদৃশ্যহীন। যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল খাও এবং ফল সংগ্রহের দিনে তার হাক্ক (অর্থাৎ উশর) প্রদান করো এবং অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। (সুরায়ে আনআম ৬:১৪১) ।

মহান আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন যে, সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ে মহান আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম এবং জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। (সুরায়ে নুর ২৪:৩৭)

যথারীতি জাকাত প্রদান করলে দারিদ্র্য আর থাকবে না। একসময় জাকাত নেওয়ার মতো লোকই পাওয়া যাবে না। এ সম্পর্কে রসুল পাক (স.) বলেন যে, তোমরা ছাদাকাহ (জাকাত) প্রদান করো, কেননা তোমাদের ওপর এমন যুগ আসবে, যখন মানুষ আপন ছাদাকাহ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না। (দাতা যাকে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করবে সে) লোকটি বলবে, গতকাল পর্যন্ত নিয়ে এলে আমি গ্রহণ করতাম। আজ আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ্ বুখারি :১৪১১, সহিহ্ মুসলিম :১০১১)

রমজানে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতরমজানে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
জাকাত না দেওয়ার পরিণাম ভয়াবহ। রসুলে পাক (স.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে ধন-সম্পদ পেয়েছে কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন ঐ ধন-সম্পদ এমন বিষধর সাপে পরিণত হবে, যার মাথার ওপর থাকবে দুটি কালো দাগ। এ সাপ সে ব্যক্তির গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সাপ উক্ত ব্যক্তির গলায় ঝুলে তার দুইটা গালে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, আমি তোমার মাল, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। (সহিহ্ বুখারি :১৪০৩)।

রসুলে পাক (স.) আরো এরশাদ করেন যে, প্রতিদিন সকালে দুই জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ্! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (সহিহ্ বুখারি :১৪৪২, সহিহ্ মুসলিম :১০১০)। তাই জাকাত প্রদানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা নবিয়ে করিম (স.) এরশাদ করেন, যখন তোমাদের কাছে জাকাত আদায়কারী আসবে, তখন সে যেন তোমাদের কাছ থেকে তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (সহিহ্ মুসলিম :৯৮৯)।

নবিয়ে করিম সা. এরশাদ করেন, যেসব জমিতে বৃষ্টি ও ঝরনার পানিতে সেচ হয়, অথবা যেসব জমিতে উপরিভাগ থেকে সেচ করা হয়, সেসব জমির ফসলে জাকাতের পরিমাণ এক-দশমাংশ। আর যেসব জমিতে কূপ থেকে পানি সরবরাহ করা হয়, সেসব জমির ফসলের ২০ ভাগের একাংশ জাকাত (উশর) দিতে হবে। (সহিহ বুখারি :১৪৮৩)। জাকাতের সাহাঘ্য পেলে গরিব মানুষ দুস্হরা ভালো খাবার খেয়ে সেহরি এবং ইফতার করে রোজা পালন করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাই যেন আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসি।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ

আরও খবর