অনলাইন ডেস্ক •
মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নামে ছড়ানো ঘৃণা ও সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের একটি আদালতে ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়।
রোহিঙ্গাদের পক্ষে আইনি সংস্থা এডিলসন পিসি ও ফিল্ডস পিএলএলসি মামলাটি করে। সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিটিশ আইনজীবীরাও ফেসবুকের লন্ডন কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা ও ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছিল, যা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীটির ওপর নির্যাতনে ইন্ধন জুগিয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তাদের এমন নীরবতায় মিয়ানমারে হাজারো রোহিঙ্গা মুসলিম প্রাণ হারিয়েছে। পাশাপাশি প্লাটফর্মটির অ্যালগরিদম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফেসবুক।
অভিযোগে তারা বেশকিছু প্রমাণাদি পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের একটি পোস্ট, যেখানে লেখা—হিটলার ইহুদিদের যেভাবে দমন করেছে, রোহিঙ্গাদেরও আমরা সেভাবে দমন করব। অন্য একটি পোস্টে বলা হয়, তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দাও, যাতে তারা দ্রুত আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে।
অন্যদিকে ফেসবুকের লন্ডন কার্যালয়ে আইনি সংস্থা ম্যাকিউ জুরি অ্যান্ড পার্টনার্সের পাঠানো চিঠিতে মিয়ানমারে গুরুতর সহিংসতা, হত্যাসহ অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে। ম্যাকিউর চিঠিতে আরো বলা হয়, ফেসবুক দোষ স্বীকার করলেও ভুক্তভোগী কোনো রোহিঙ্গা বা তাদের পরিবারকে চুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়নি।
২০১৮ সালে ফেসবুক স্বীকার করে, প্লাটফর্মটি মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের উসকানি রোধে যথেষ্ট কাজ করেনি। ম্যাকিউ জুরি ও পার্টনার্স পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যারা ঘৃণা ছড়াতেন এবং রোহিঙ্গাদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছিলেন, তারা ফেসবুক ব্যবহার করেই কাজগুলো করতেন। তাদের পোস্টগুলো অফলাইনেও সহিংস ছিল।
ব্রিটেনের আইনজীবীরা নতুন বছরে যুক্তরাজ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের শিবিরে শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে উচ্চ আদালতে একটি দাবি রাখবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতেই সহিংসতা ও অপপ্রচারের পোস্ট, ছবি ও ভিডিও ব্যবহারকারীদের দেখাতে উৎসাহিত করেছে ফেসবুক, যা গণহত্যায় উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।
মিয়ানমারে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটিরও অধিক। অন্য যেকোনো সোস্যাল মিডিয়ার চেয়ে এটির ব্যবহারকারী বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি তথ্য ও বার্তা আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিনের খবরগুলো আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-