অনলাইন ডেস্ক
বড়গুনার বেতাগী উপজেলায় সরকারি আবাসন প্রকল্লের নির্মাণ সামগ্রী চুরির মামলার আসামি পেলেন ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত মুজিববর্ষের ঘর। এ ঘটনায় বেতাগী উপজেলায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
জানা যায়, গত বুধবার বেতাগীতে সরকারি আবাসনের মালামাল চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার দ্বিতীয় আসামি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল সিকদার।
শহিদুল সিকদার গত ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় ক্ষমতার ব্যবহার করে এলাকায় মারধর, অবৈধভাবে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকার সবাই শহিদুলকে চিনেন নামকরা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে। এতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত লোককে মুজিববর্ষের ঘর প্রশাসন কিভাবে দিলো এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ইউপি সদস্য মনিরের দাপটেই সরকারি ঘর পেয়েছেন শহিদুল। এলাকার অন্য একজন মহিলার ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতি করে ঘরের নাম দেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনির। পরে সেই ঘরের দখল বুঝিয়ে দেন তার সহচারী শহিদুলকে। এছাড়া আবাসনের মালামাল চুরির ঘটনায় মামলার ১ দিন পরই দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনির সিকদার ও শহিদুল সিকদার।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন,সরকারি মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সুহৃদ সালেহীন জানান, আশ্রয়ন প্রকল্প ও মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। আবাসনের মালামাল চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ইউপি সদস্য মনির ও শহিদুল। সেখানে শহিদুল কিভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্যেও ঘর পেয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মো.হাবিবুর রহমান জানান, কোনো স্বচ্ছল পরিবার বা ব্যাক্তি যদি মুজিববর্ষের ঘর পেয়ে থাকে সেটি বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে আবাসানের মালামাল চুরির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনের পর ওই ইউপি সদস্যর পদ বাতিল করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।’
উল্লেখ্য,বরগুনার বেতাগীতে সরকারি আবাসনের মালামাল চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগ ইউপি সদস্য মো. মনির ও শহিদুল সিকদারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামে সিডর পরবর্তী সরকারি আবাসন নির্মাণ করা হয়। আবাসনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ওই জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৫ দিন ধরে সেখানকার পুরানো টিন, লোহার এঙ্গেল ভেঙে আবাসনের জায়গায় জমা রাখা হয়। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনির সিকদার ওইসব মালামাল পিকআপ ভ্যানে তুলে লোকজনের অগোচরে বাকেরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডের কাছের এনায়েত হোসেনের ভাঙারি দোকানে বিক্রির জন্য নিয়ে যান।
প্রতিদিনের খবরগুলো আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-