গিয়াস উদ্দিন ভুলু,কক্সবাজার জার্নাল •
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর টেকনাফ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে নিবার্চন প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে কিছু অসাধু চক্র।
পাশাপাশি নির্বাচনীয় এলাকায় অনেক প্রার্থীরা অস্ত্রের মহাড়া চালিয়ে ভয়ভীতি প্রর্দশন করছেন।
১২ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্টিত টেকনাফ চার ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে মতবিনিময় সভায় আট চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এসমস্ত অভিযোগ গুলো তুলে ধরেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ চৌধুরীর সভাতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপস্থিতি ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ।
সভায় বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সদর, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নে রির্টানিং কর্মকর্তা মোঃ বেদারুল ইসলাম, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) শাকিল আহমদ ও সহকারি কমিশনার ভূমি এরফানুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী রাসেদ মাহামুদ আলী বলেন, ‘আমার নির্বাচনীয় এলাকা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত হওয়ায় আমার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী ক্যাম্পের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে আসছে। এটা উদ্বেগের বিষয়, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে। এমনও খবর আছে যে, পাহারার নামে এসব স্বশস্ত্র বাহিনী ভোট কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেবে। ফলে সেখানে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োগ করতে হবে।
স্বচ্ছ ব্যালটবক্স ও জনগনের ভোটধিকার প্রয়োগ করতে পারলে নির্বাচন সুষ্ট হবে উল্লেখ করে সাবরাং’র বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর হোসেন জানান,তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতি পক্ষের প্রার্থীর স্বজনরা লাইন্সেধারী অস্ত্র ব্যবহার করে আমার সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাই নির্বাচন সময়ে এসব অস্ত্র সরকারের জিম্মায় নিয়ে আসতে হবে। পাশপাশি অবাধ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দরকার।
নৌকার প্রার্থী সোনা আলী জানান,আমার জনপ্রিয়তা দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছে। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীরা আমার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করছে। এমনকি তাঁরা প্রভাব কাটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সুবিধা মতে ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।
এএসপি মো. রফিকুল ইসলাম জানান,সুষ্ট ও অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ আইন প্রযোগ করা হবে। নির্বাচন নীতিমালা লংঘন করলে কোন পরিচয়ে ছাড় পাবে না।
প্রধান বক্তা ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সুষ্ট ও শান্তি পূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমরা সবাই এক যোগে কাজ করছি। বাহির থেকে কোন লোক এখানে আসার সুযোগ নেই। নির্বাচনে কেউ অবৈধ অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করলে কোন প্রকার আদেশের অপেক্ষা না করে দ্রæত আইন প্রয়োগ করা হবে। তাছাড়া প্রত্যাক প্রার্থীকে আচরন বিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে হবে।
তিনি জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন থেকে যারা অপপ্রচার চালানোর প্রচেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
এদিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্টিত হতে যাওয়া টেকনাফ উপজেলার চার ইউনিয়নে নির্বাচনে ২৫ চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৬৮, ও ৩৩৭ জন পুরুষ সদস্য প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া চলছে। উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৬জন। তার মধ্য নারী ৫৯ হাজার ২৬৫ ও ৫৮ হাজার ৪৫১ জন পুরুষ ভোটার রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারনে আপততে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের নির্বাচান স্থগিত রয়েছে।
প্রতিদিনের খবরগুলো আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-