ভেঙে পড়েছে কক্সবাজারের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

আজিম নিহাদ •

কক্সবাজারের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সহ ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা থাকা স্বত্বেও কেন শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল অবস্থা সেটার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। ইতোমধ্যে বেশকিছু কারণও খুঁজে বের করেছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি বিশেষজ্ঞ টিম। বিশেষজ্ঞ দলের পক্ষ থেকে ঝরেপড়ার কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু না জানানো হলেও তারা এখানকার প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল অবস্থার কথাটি স্বীকার করেছেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে- রোহিঙ্গা প্রভাব, শিক্ষকদের অদক্ষতা-গাফেলতি এবং সর্বশেষ করোনা মহামারীর কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা আছে। পাশাপাশি শিক্ষার আওতায় না আসার শঙ্কাও তৈরী হয়েছে। এই ঝরেপড়া রোধ এবং শিক্ষার হার বাড়াতে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি শেখানোর জন্য কক্সবাজার জেলার ১০০ জন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে ঢাবি’র শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।

এতে থাকবেন- পরিদর্শক, প্রশিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাবি’র শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ টিম।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রস্ক ফেইজ-২ প্রকল্প ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগীতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর একটি বিশেষজ্ঞ টিম সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে ক্যাপাসিটি নীড এসেসম্যান্ট ও ট্রেনিং নীড এসেসম্যান্ট শীর্ষক গবেষণামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম অহিদুজ্জামান সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন গবেষণা দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান. প্রফেসর হোসনে আরা বেগম, প্রফেসর মো: সিরাজুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শাহ আব্দুর রহিমনুরুন্নবিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও
স্থানীয়ভাবে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, গত ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় গবেষণা টিম সরেজমিন গবেষণা কার্যক্রম চালায়। এরমধ্যে তারা ৫৬১ জনের সাথে ৫৪টি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে ৭২ টি কী ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ করে।

এতে বেশকিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে বিশেষ কারণে গবেষণায় উঠে আসা তথ্যগুলো শেয়ার করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ঢাবি’র শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে দায়িত্ব দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কক্সবাজারের ১০০ জন কর্মকর্তাকে ঢাবি’তে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী এপ্রিল মাসে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। কয়েকটি গ্রুপ ভাগ করে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। এরপর তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসাথে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি ঘটাতে যা যা প্রয়োজন হয় তার সরকারের কাছে সুপারিশ হিসেবে তুলে ধরা হবে।

জানা গেছে, কক্সবাজারে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ টি এনজিও সংস্থা কাজ করে। কিন্তু দৃশ্যত প্রাথমিক শিক্ষার কোন উন্নতি ঘটেনি কক্সবাজারের। উল্টো দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। নামমাত্র প্রোগ্রাম দেখিয়ে বছরের পর বছর লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

একজন শিক্ষাবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এনজিওগুলো চায় শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকুক, দূরাবস্থা লেগে থাকুক। এরকম হলে তারা বছরের পর বছর প্রকল্প পায়, আর পকেট ভারী হয়। শুধুমাত্র প্রকল্পের নামে পকেট ভারী করা ছাড়া কিছুই করে না। অন্যদিকে রোহিঙ্গা শিবিরের প্রতিটি প্রকল্প থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠির জন্য ২৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও কক্সবাজারে এর দৃশ্যমান কোন প্রতিফলন নেই।

জবাবদিহিতা এবং সঠিক মনিটরিং না থাকার কারণে এনজিওগুলো যা ইচ্ছে তা করে যাচ্ছে। এনজিওগুলোর লুটপাটে শামিল না হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতির জন্য কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবী জানান তিনি।

আরও খবর