উখিয়ায় বেসামাল সবজির বাজার: নেই মনিটরিং

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া •

দুই-একদিনের হাল্কা বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে ছিল পুরো উখিয়া। ওপরের পানিতে ডুবেছে ফসলী ক্ষেত, সবজির আবাদ। এর ছোবল পড়েছে উখিয়ার বাজারগুলোয়। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে কাঁচা মরিচের কেজি উঠেছে ২০০ টাকায়। আর সবধরণের শাক-সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ আবার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকা আলুর দামও গতকাল কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। অপরিবর্তেত আছে চাল, ডাল, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মাছ, মুরগি প্রভৃতির দাম। শুক্রবার দারোগা বাজারসহ উখিয়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

উখিয়া সদর দারোগা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। টমেটো ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা।

এছাড়া মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স, ১০০ টাকা ধুন্দল, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বরবটির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। প্রতি আঁটি লাল শাক ও মুলা শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, শাপলা, ও ডাটা শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির দাম অনেক বেশি। এক কেজি ফুলকফি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজার মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচ ছিল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা। এর আগে ১৪০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করেছেন তারা। হঠাৎ লাফিয়ে দাম বাড়ছে। পাইকারি আড়ত থেকে এখন এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ ৭৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে পাইকারি বাজার থেকে। খুচরা পর্যায়ে গতকাল ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ২৫ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যায়। তারা জানান, এখন স্বাভাবিক মরিচের মৌসুম শেষ। বাজারে আসছে বর্ষকালীন মরিচ। অসময়ের বৃষ্টির কারণে মরিচ নষ্ট হওয়ায় এবং মরিচের ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া করোনার কারণে আমদানি করা মরিচ বাজারে কম আসছে। ফলে দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, গ্রামেগঞ্জে সব জায়গায় এখন বৃষ্টির পানি উঠে গেছে। অনেকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সবজির দাম এখন বেশি। গত এক সপ্তাহ ধরেই সব ধরনের সবজি বাড়তি দামে বিক্রি করছেন তারা। কারণ পাইকারি বাজার থেকে তাদেরকেও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। কোট বাজারের মানিকের দাবি, পাইকারি বাজারে সবজি কিনতে গেলেই ৬০ টাকা। দাম করা যায় না, সবার কাছে এক দর। তিনি বলেন, মিডিয়ায় খবর আসে গ্রামের কৃষক সবজির মূল্য পায় না। আমাদের দেশে এই কারসাজি দেখার কেউ নেই। কথা বলেও লাভ নেই।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মলা ৩২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খুচরায় না কমলেও পাইকারি বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে বলে জানান কিক্রেতারা। পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চালের দাম ২৫০০ থেকে ২৫৫০ টাকা, আটাশ ২৪৫০ থেকে ২৫০০ টাকা, স্বর্ণা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ টাকা ও নাজিরশাইল ২৩০০ থেকে ৩০০০ টাকা। খুচরা বাজারে আগের মতোই মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, আটাশ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও স্বর্ণা ৩৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম না কমানোর পক্ষে খুচরা বিক্রেতাদের গতানুগতিক যুক্তি, আগের কেনা।
বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। রসুন বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আদা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিদরে। বিক্রেতারা জানান, চলতি মাসের শুরুতে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে ২০ টাকায় নেমেছিল। তখন দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায়। এখন আমদানি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে।

তবে রসুন আগের সপ্তাহের মতো কম দামেই বেচাকেনা হচ্ছে। এখন প্রতি কেজি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উখিয়ার বাজারগুলোতে গতকাল গরুর গোশত প্রতি কেজি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির গোশত ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। লাল লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। এছাড়া এক কেজি ওজনের প্রতিটি কক মুরগি ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

আরও খবর