ইয়াবা নিয়ে পাচারকারী ধরা পড়লেও সিএনজি মালিক ও মূল কারবারি নুর মোহাম্মদ অধরা!

বার্তা পরিবেশক :

উখিয়ার নব্য কারবারি নুর মোহাম্মদ (প্রকাশ আব্বুইয়া) ইয়াবা ব্যবসায় ভালোই নাম করলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
সে পালংখালীর থাইংখালীর গজুঘোনা এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবুল সামার পুত্র।

জনমনে প্রশ্ন, তার হঠাৎ পরিবর্তন যেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মত। অবৈধ পথে ইনকাম করে সে এখন লাখ লাখ টাকার মালিক। নামে-বেনামে রয়েছে বিভিন্ন সম্পদ এবং সড়কে রয়েছে তার কয়েকটি গাড়ি।

সে কতিপয় অসৎ পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কারবার। এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার থাইংখালী এলাকায় নুর মোহাম্মদ একজন ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিতি পেলেও বরাবরই অধরা রয়ে গেছেন। তালিকার শীর্ষে থাকা অনেক ইয়াবা ডন গ্রেপ্তারের পরও নিজের অবস্থান টিকিয়ে সারাদেশে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যার ফলে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যে পাচার করছে কাড়িকাড়ি ইয়াবা।

সূত্রে জানায়, পালংখালীতে ইয়াবার বাজার নিয়ন্ত্রন অনেকটা নুর মোহাম্মদের হাতে থাকায় অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ক্রয় করে। পালংখালীতে এ ধরনের প্রায় অর্ধশতাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের মতে নুর মোহাম্মদ প্রকাশ আব্বুইয়া অন্যতম। এছাড়া পালংখালী গত এক বছরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান এলাকাবাসী।

যার ফলে বর্তমানে পালংখালী অলিতে গলিতে ও পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালে পাওয়া যায় মরণব্যধী ইয়াবা আর ইয়াবা। মাঝে মধ্যে উখিয়া থানা পুলিশ খুচরা ব্যবসায়ীদের ধরে আইনগত ব্যবস্থা নিলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা রয়েছেন অধরা।

সম্প্রতি নুর মোহাম্মদ প্রকাশ আব্বুইয়ার একটি চালান নিয়ে যাওয়ার পথে মরিচ্যা বিজিবি চেকপোস্টে সিএনজি গাড়িসহ ধরা পড়ে গজুঘোনা এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে মোহাম্মদ রায়হান (২৩)। এসময় বিজিবি গাড়ি তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। তবে, ইয়াবা ব্যবসার সাথে রায়হান জড়িত নেই বলে দাবী করেছেন তার পিতা মোহাম্মদ হোসাইন।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আব্বুইয়া গাড়িতে বিশেষভাবে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু আমার ছেলে তা বুঝতে পারেনি। এখন আমার নিরপরাধ ছেলে জেলে। তার কারণে সারাজীবন মাদকের বদনাম বয়ে বেড়াবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো প্রকৃত ব্যবসায়ী আব্বুইয়াকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক এবং আমার নিরপরাধ ছেলে জামিনের ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয়রা জানান, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিলো আব্বুইয়ার পরিবারে। তার বাবা একজন সাধারণ কৃষক। মানুষের জমিতে চাষ করে সংসার চলতো তার। কিন্তু বেকার ছেলে আব্বুইয়া রীতিমতো ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে গত কয়েক বছরে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন।

সূত্রমতে, ইয়াবা কারবারি নুর মোহাম্মদ প্রকাশ আব্বুইয়ার নেতৃত্বে পুরো উখিয়ার বিভিন্ন সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোনও না কোনওভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কারা ইয়াবা পাচার করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সমাজের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বা নজরদারির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আগামী প্রজন্ম খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, থাইংখালীর অপরাধজগত ও নানা অপকর্মের অন্যতম ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসবে ইয়াবা পাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

এবিষয়ে নুর মোহাম্মদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উখিয়া থানার ওসি মো. আরিফ বলেন, মাদক কারবারিদের কোন ছাড় নাই। পালিয়ে কেউ বেশিদিন বাঁচতে পারে না। পুলিশ ঠিকে খোঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করবে। তালিকা থেকে বাদ পড়া মানে বেঁচে যাওয়া নয়। মাদক কারবারিরা যতো বড় মাপের হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও খবর