নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার সদরে প্যানেল কমিটির সভা ও প্যানেল পরিক্ষা এবং কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই স্বৈরাচার আ’লীগের দোসর বহু মামলার আসামি মো. হোছাইন প্রকাশ নৌকা মৌলভী নামের এক ভোট ডাকাতকে কাজী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের পতনের পরেও স্বৈরাচারের দোসর কিভাবে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নিয়োগ প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ নিয়ে প্যানেল নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ স্থগিত চেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছেন সাইমুন কামাল ও রমিজ কামাল নামের দুই কাজী প্রার্থী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গেল বছরের ৫ই মে স্বারক নং ২৩২ এর প্রেক্ষিতে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ দেয়া হলেও তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রার নোটিশ বোর্ড ও পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়াও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যারা আবেদন করেছেন তাদের কাউকে প্যানেল গঠন পরীক্ষায় আহবান করা হয়নি। যা প্যানেল গঠনের প্রক্রিয়া আইনগত অবৈধ!
সাইমুন কামাল আরও অভিযোগ করে বলেন, গেল নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগ কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী স্বৈরাচারের সাবেক সংসদ সদস্য (হুইপ) সাইমুম সরওয়ার কমল ও সদস্য সচিব সাব-রেজিস্ট্রার রিয়াজুল ইসলাম ও ফ্যাসিবাদ সরকার আওয়ামীলীগের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, সদর উপজেলা সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম চৌধুরীর যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে গোপনে অনিয়ম করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রামুর জি.আর ৫০২/২৪ ও সদরের দ্রুত বিচার নং ৮৪/২৪ ইং মামলার আসামি মো. হোছাইন প্রকাশ নৌকা মৌলভীর পক্ষে অবৈধ প্যানেল করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা অন্যান্য প্রার্থীরা কোনোভাবে অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর আগের পাঠানো প্যানেলে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভোল পাল্টে ৬ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ নিশ্চিত করেন।
আরেক অভিযোগকারী রমিজ কামাল বলেন, দেশের এই কঠিন সময়েও ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী সন্ত্রাসী বহু মামলার কাজী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে যা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। সে ফ্যাসিবাদের ক্ষমতা বলে ২০২৩ সাল হতে কাজী অফিস উদ্বোধন করে অনৈতিকভাবে বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বৈবাহিক অপরাধ করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। যা তদন্ত করলে তলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে। এছাড়াও সে মুসলিম নিকাহ্ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা না মেনে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে ভুয়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বাজারে ছাপানো বালাম বই ব্যবহার করে বহু বিবাহ পড়িয়েছে। যা গুরুতর অপরাধ।
এদিকে, এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের দোসর স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যান জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে বাহুবল দেখিয়ে ইউনিয়ন জুড়ে চরমভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। তারই একটি অংশ ছিলো নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ। যেখানে চরম জালিয়াতি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয় জানতে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে (নিয়োগ প্যানেলের সদস্য সচিব) যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগ (প্যানেল) সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছারের সাথে যোগাযোগ করলে মুঠোফোনে জানান, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগের জন্য ওই সময়ে কোনো মিটিং হয়নি এবং তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এমতাবস্থায় বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা দিতে অবৈধ জালিয়াতি প্যানেল ও নিয়োগ আদেশ বাতিল করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন সচেতন মহল।
প্রতিদিনের খবরগুলো আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-