টেকনাফে পাঁচ দিন আগে অপহৃত কিশোর উদ্ধার: নারীসহ আটক-৪

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, কক্সবাজার জার্নাল •


টেকনাফে পাঁচ দিন আগে হ্নীলা বাজার থেকে অপহৃত হওয়া কিশোর খায়রুল আমিন (১২) কে পাহাড়ের গহীন অরণ্য থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কিশোর খায়রুল অত্র উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন মৌলভীবাজার এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছ’র পুত্র।

২১ জুন (বুধবার) দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়ন রঙ্গিখালী এলাকা সংলগ্ন গহীন পাহাড় থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন হ্নীল বাজার থেকে অপহরন চক্রের সদস্যরা তাকে অপহরণ করে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, খায়রুল আমিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। গত ১৬ জুন সে রঙ্গিখালী এলাকার তার বন্ধু ফরহাদের বাসায় যাওয়ার জন্য অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য জৈনক আলমের টমটম গাড়িতে উঠে। এরপর টমটম চালক আলম তার অপর সহযোগীদের সহযোগীতায় সু-কৌশলে খায়রুল আমিন কে বন্ধুর বাসায় নেয়ার পরিবর্তে রঙ্গিখালী পাহাড়ি ঢালার দিকে নিয়ে অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেয়। পাহাড়ে নিয়ে তারা ভিকটিমের মুখ বেঁধে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে অপহরণকারী তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে।
এরপর ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ সদস্যরা গহীন পাহাড়ে দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করে।

অবশেষে বুধবার দুপুরের দিকে অপহৃত খায়রুলকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত এক নারীসহ ৪ জন অপহরনকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, অপহৃত কিশোর খায়রুল আমিনকে অপহরনকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য গুরুত্বসহকারে অভিযান পরিচালনা করি।

সর্বপ্রথম অপহরণ চক্রের অন্যতম সদস্য টমটম চালক আলম কে আটক করা হয়। এরপর ধৃত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও গ্রাম পুলিশের সহযোগীতায় রঙ্গিখালী গহীন পাহাড়ী বেশ কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক পর্যায়ে পাহাড়ে অবস্থানরত অপহরণ চক্রের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অপহৃত কিশোর খায়রুল আমিনকে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।
এতে ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ওসি আরো জানান,সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে এক নারীসহ চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়।

ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত অপরাধে জড়িত অপরাপর আসামীদের আইনের আওতাই নিয়ে আসার জন্য পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও খবর