টেকনাফে যুবলীগ নেতা হত্যার ৬ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট • গত ২২ আগস্ট টেকনাফের হ্নীলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওমর ফারুক (৩০) নামের এই যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠে কয়েকজন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে। ফারুক হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও দুই রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত দুজনই যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি। এনিয়ে ফারুক হত্যা মামলার আসামি ছয় রোহিঙ্গা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা নিহত হন।

নিহতরা হলেন- মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু উপজেলার বুসিদং ইউনিয়নের হাসুরতা গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জমির আহমদের ছেলে মো. আবদুল করিম (২৪) ও মিয়ানমারের একই ইউনিয়নের পুইমালী গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ক্যাম্পের সৈয়দ হোসেনের ছেলে নেছার আহমদ (২৭) ওরফে নেছার।

পুলিশ জানায়, নিহত দুজনই যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি। এ নিয়ে ফারুক হত্যা মামলার আসামি ছয় রোহিঙ্গা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেন।

টেকনাফ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারেন যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার মামলার আসামিরা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস অফিসের পেছনে পাহাড়ের ওপরে পানির ট্যাংকের নিচে অবস্থান করছে।

টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে একদল অস্ত্রধারী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে এএসআই কাজী সাইফ উদ্দিন, কনস্টেবল নাবিল ও রবিউল ইসলাম আহত হন।

Loading...

ওসির ভাষ্য, এসময় কোনো উপায়ন্তর না দেখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে এগিয়ে যায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন ও রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও রোহিঙ্গা মাঝিদের সহায়তা ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি এলজি, ৭ রাউন্ড শটগানের তাজা কার্তুজ ও ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।

ওসি প্রদীপ কুমার বলেন, গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের পরিচয় উপস্থিত রোহিঙ্গা মাঝিদের সহায়তা শনাক্ত করা হয়েছে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযান জোরদার রয়েছে। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট টেকনাফের হ্নীলায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ওমর ফারুক (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠে কয়েকজন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে। ফারুক হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

নিহত ফারুকের বাবা মোহাম্মদ মোনাফ বাদী হয়ে পরদিন টেকনাফ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এরপর ২৪ আগস্ট ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ফারুক হত্যা মামলার আসামি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু উপজেলার রাসিদং এলাকার বাসিন্দা ছব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও একই উপজেলার শীলখালী এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে আবদুস শুক্কুর (২৮) নিহত হন। তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করে আসছিলেন।

দু’দিন পর ২৬ আগস্ট ভোরে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান মোহাম্মদ হাসান (২৮) নামের রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছে। ফারুক হত্যা মামলার আসামি হাসান টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ই-ব্লকের হামিদ উল্লাহর ছেলে।

গত ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন নুর মোহাম্মদ (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক। নিহত নুর মোহাম্মদ যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।