টানা বর্ষণে জেলার সর্বত্রে বিপর্যস্ত জনজীবন, জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগ

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন উপজেলার রাস্তাঘাট, হাট-বাজার বৃষ্টির বদ্ধ পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বৃষ্টিজনিত রেইন কাটের কারণে সদর উপজেলা থেকে উখিয়া উপজেলা পর্যন্ত বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উভয় পাশের বিভিন্ন পয়েন্টে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কের পিচঢালাই উঠে খোয়া বেড়িয়ে পড়েছে।

বৃষ্টিতে শহরের পূর্ব অংশ, উপজেলা গেইট, পৌরসভার পূর্বের অংশ, বাজারঘাটা, রুমালিয়ার ছড়া, আলীর জাঁহাল, তারাবানিয়ার ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি উঠায় তারা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

বৃস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর সামান্য সময়ের জন্য থামলেও পরবর্তীতে আবারও শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজার শহরের মেইন রোডসহ কয়েকটি রোডে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া শহরের বাসিন্দাদের। সপ্তাহের শুরুর দিন হওয়ার পরও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তেমন লোক সমাগম ছিল না। শহরেরও মানুষের চলাচল অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম। এতে করে বাজার বিপণি বিতান অনেকটাই জন শূণ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

Loading...

আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এসব রোগ দেখা দিচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বৃষ্টি হাওয়ার ফলে তীব্র গরম থেকে মুক্তি মিলেছে। এজন্যও কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করছেন। শহরের বৈধ্যঘোনা এলাকার বাসিন্দা জয়েদ আহসান বলেন, বৃষ্টি গরম থেকে স্বস্তি দিলেও বৃষ্টির সময় কাজ করা অনেক কঠিন। কারপ ভিজে যায় আর এ থেকে ঠান্ডা লেগে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। আমরা তো এখন উভয় সংকটের মধ্যে রয়েছি। বৃষ্টি না হলে গরম আর বৃষ্টি হলে টানা বৃষ্টি একদম ঘর থেকে বের হওয়াই যায় না।

শহরের টেকপাড়ার মুদি মালের ব্যবসায়ী আমিরুল হাসান বলেন, বৃষ্টির কারণে লোকজন কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যার ফলে তেমন কোন বেচা-বিক্রি নাই, দোকানে বসে অলস সময় পার করছি। সকাল থেকে এক হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারি নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ দিনে কক্সবাজার জেলায় ১১৪ দশমিক ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবীরা বেকার বসে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে বাজারে শাক-সবজিসহ কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।