মাদক সেবনে অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি

মোঃ জয়নাল আবেদিন

অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়া, হলে নানা সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকরা, মাদকের আড্ডা বসানো, সিনিয়র জুনিয়রসহ নিজ দলের কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ থাকার পরও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগে সহ-সভাপতি পদবি দেওয়া হয় কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জিসানকে। শাখার ছাত্রলীগের বিভিন্ন সারির নেতাদের দাবি, শাস্তির পরিবর্তে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সহসম্পাদক পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সহ-সভাপতি বানিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে শাখা ছাত্রলীগ।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগের এ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাইহান ওরফে জিসান।

গতকাল রাত শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ স্বাক্ষরিত এই ছাত্রলীগ নেতার কাছে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে তার সহ-সভাপতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বর্তমানে এই ছাত্রনেতা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে বহাল থাকলেও তা বাতিল না করেই নতুন পদ দেয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Loading...

জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের এই নেতার নেতৃত্বে গভীর রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের পাঁচ তলায় ৫০৬ নাম্বার কক্ষে মাদকসেবীদের নিয়ে আসর বসান। রাতে কেউ ঐ রুমের সামনে দিয়ে গেলে মাদকের গন্ধ নাকে এসে লাগে। সময়ভেদে গাঁজা, (দেশি-বিদেশী) মদসহ ইয়াবার গন্ধও পাওয়া যায়। এ নিয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কয়েকবার ঝামেলাও পাকিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ নেতাকে। এছাড়া এই নেতার বিরুদ্ধে হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই হলের বেশ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, হলে তার রুমে প্রায় প্রতি রাতেই মাদকের আসর বসানো হয় এটা সবাই জানে। কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে কিছু বলেনি। তাই সে যখন যা খুশি তাই করে বেড়ায়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সাংবাদিকদের সাথেও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।

মাদকসহ নানান অপরাধের সাথে জড়িত এই নেতা শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে গেলে তারা জানান, এতদিন সামান্য পদে থেকেই সে হলে নানা অপকর্ম করে বেড়িয়েছে। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি। আগে থেকে বেশি উশৃঙ্খল আচরণ করবে। তাদের প্রশ্ন ছাত্রলীগের মতো এমন সংগঠনে কিভাবে এমন মাদকসেবীকে সহ-সভাপতি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রাইহান বলেন, আমার নামে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও সাজানো। আমি পদ পাওয়াতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এগুলো বলছে। মাদক সেবনে অসুস্থ হওয়ায় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা হিট স্টোক ছিলো।

মাদকের সাথে জড়িত থাকার পরও সহ-সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার না করে সহ-সভাপতি বানিয়ে পুরস্কৃত করার বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে নতুন পদ দিয়েছি।

এবিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানিকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।