টোকেনের জমা মোবাইলও ফেরৎ দিচ্ছে না নারী দর্শনার্থীকে

কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দ্দেশ জেলা প্রশাসকের

বিশেষ প্রতিবেদক :

কক্সবাজার কারা অভ্যন্তরের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গত রবিবারের দৈনিক আজকের দেশবিদেশ সহ জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয় নিয়ে তদন্তের নির্দ্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাজাহান আলীকে কারাগারের বিষযটি দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে কারাগার অভ্যন্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার কারাগারের সদর গেইটের ফটকে টোকেনের মাধ্যমে জমা দেয়া একটি দামি মোবাইল হারিয়েছেন এক নারী দর্শনার্থী। কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া টোকেনটিও কৌশলে গতকাল ওই নারীর হাত থেকে কেড়ে নিয়েছেন কারারক্ষীরা। এরপর মোবাইল মালিক কে এখন নানা অজুহাতে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার ঈদ পরবর্তী টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে ইয়াবা কারবারি স্বামী নূর মোহাম্মদের জন্য ঈদের খাবার নিয়ে এসেছিলেন স্ত্রী ইয়াসমিন। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রামের বাসিন্দা তারা। কারাবন্দি নুর মোহাম্মদ বর্তমানে কারাগারে আটক আতœসমর্পণ করা হ্নীলা ইউনিয়নের মেম্বার নুরুল হুদার ঘনিষ্ট আতœীয়।

কারাবন্দি নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ইয়াসমিন জানান, তিনি তার স্বামীকে দেখার জন্য গত শুক্রবার কারাগারে এসেছিলেন। কারাফটকে যথারীতি ‘মৌলভী সাহেবকে’ টোকেনের মাধ্যমে তার অপু ব্রান্ডের ২০/২১ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইলটি জমা দেন। ভাতের ক্যারিয়ার ঢুকানোর জন্য ইয়াসমিনের নিকট থেকে কারারক্ষীরা যথারীতি ১০০ টাকাও আদায় করেন।

Loading...

ইয়াসমিনের স্বামী নুর মোহাম্মদ কে ৩ মাস ২০ দিন আগে ২০০ ইয়াবা নিয়ে পুলিশ কারাগারে চালান করে দিয়েছিলেন। গত শুক্রুবার স্বামীকে ভাত দিয়ে যথারীতি স্ত্রী ইয়াসমিন কারাফটকে এসে মৌলভী সাহেবের কাছে মোবাইল ফেরৎ চাইলে মোবাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাকে জানানো হয়। তবে কারারক্ষীরা সেদিন ইয়াসমিনকে দেয়া টোকেনটি কেড়ে না নিয়ে তাকে দুই একদিন পর আসতে বলেন। ইয়াসমিন গতকাল মঙ্গলবার কারাগারে গিয়ে তার মোবাইলটি ফেরৎ চাইলে তাৎক্ষনিক তার নিকট থেকে টোকেনটি কেড়ে নেয়া হয়।

কারারক্ষীরা টোকেন কেড়ে নিলেও ইয়াসমিনের ভাগ্য বলে ততদিনে তার স্বামীর নিয়োজিত আইনজীবীর পরামর্শে তিনি কারাগারের টোকেনটির একটি ফটোকপি হাতে রেখে দেন। কারারক্ষীরা সেই ফটোকপি টোকেন কেড়ে নিতে পারেননি। গতকাল সন্ধ্যায় ইয়াসমিন সেই ফটোকপি সংবাদকর্মীদের হাতে তুলে দেন। কারা কর্তৃপক্ষ অরিজিনাল টোকেনের কপিটি তারা কেড়ে নেয়ার পর থেকে ইয়াসমিনকে তার মোবাইলটির বিষয় নিয়ে নানা ভাবে জেরা করতে শুরু করে বলেন- মোবাইলটি খুঁজে পাওয়া না গেলে তাকে কিভাবে ফেরৎ দেয়া হবে ? তখনও কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ জানত না টোকেনের একটি ফটোকপি তার হাতে রয়ে গেছে।

এদিকে ইয়াসমিনের স্বামী গতকাল আদালতের নির্দ্দেশে জামিনে মুক্তির আদেশ পেয়েছেন। আজ বুধবার তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু হতভাগী তার মোবাইলটি ফেরৎ পাবেন কিনা সেই চিন্তায় তিনি প্রহর গুনছেন।