পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি হাস্যকর: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আসিয়ানের এক প্রতিবেদনে দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতিকে হাস্যকর আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়াও আসিয়ানের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি। 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পাঁচ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। 

সংস্থাটির মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লরা হাই ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, অ্যামনেস্টির গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন ‘যুদ্ধাপরাধ’র অভিযোগ আনা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সেখানে যে ৫ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ-স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের চিন্তা হাস্যকর।

Loading...

তিনি বলেন, আসিয়ানের প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া, এখনও রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ দুরাবস্থা এবং সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র সংঘাতের ব্যাপকতাকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। 

আসিয়ানের প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ যথাযথভাবে তুলে ধরার বদলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।