সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসছে কুতুবদিয়া

আতিকুর রহমান মানিক :

জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ও প্রায় দেড়লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ২১৫ বর্গমাইল আয়তনের এ উপজেলায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যাবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ। প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে।

পিডিবি বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের গৃহীত ২৬শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের মধ্যে কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০৩০ সাল নাগাদ ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন।‘চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প-২’ নামে এই মেগা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২৫টি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ, ১৫টি সাবস্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ৮০০ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং সাড়ে ৫ হাজার উন্নতমানের ট্রান্সফরমার বসানো হবে।এছাড়া ৪৯৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভিএক্সএলপিই, ৩০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি এক্সএলপিই এবং ৩১ কিলোমিটার ১১ কেভি এক্সএলপিই আন্ডারগ্রাউন্ড কপার ক্যাবল স্থাপন করা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং থাকবে না। ২০২২ সালের জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। তিনি আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ২০৩০ সালের উপযোগী করে তোলার জন্য পিডিবির পক্ষ থেকে নতুন করে একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একনেকের অনুমোদন শেষে এখন টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

Loading...

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন সম্প্রতি অবসরে গেছেন। এই সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। তারপর প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। তারপর কাজ শুরু হবে। সব মিলে আরো ৬ মাস লাগতে পারে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, দিন দিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমান যে বিতরণ লাইন রয়েছে সেগুলো অনেক পুরনো। তাই চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বিতরণ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট লোড কাভার হবে। এখন চট্টগ্রামের চাহিদা ১৩শ মেগাওয়াট হলেও ২০৩৫ সালে চাহিদা দাঁড়াবে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময়ের লোড ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগীভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযুক্ত হলে এখানে শিল্পায়নের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এলে লবন পরিশোধন শিল্প, মৎস্য-চিংড়ি ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরন শিল্প, গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মান শিল্প, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও বরফ কলসহ আরো বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে কুতুবদিয়ায়। এ ছাড়াও পর্যটন শিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।

কুতুবদিয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শিক্ষক ও সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার বলেন, দ্বীপের দক্ষিন পশ্চিমাংশে আলী আকবর ডেইল থেকে উত্তর প্রান্তের উত্তর ধুরুং পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে শুভ্র সমুদ্র সৈকত ও দৃষ্টিনন্দন ঝাউবন। বিদ্যুৎ সুবিধা পেলে এখানে আধুনিক হোটেল, মোটেল, কটেজ ও পর্যটন উপযোগী অন্যান্য স্হাপনা গড়ে উঠবে। এর ফলে অবহেলিত দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কুতুবদিয়ার জনগন।