প্রবাসী শ্যালকের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া : পরে একসাথে আত্মহত্যার চেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট – পরকীয়া প্রেমের জেরে ধরে একই পরিবারের ৩ জনসহ চার জনের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামে। পরকীয়ার এই ঘটনায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রেমিক আব্দুর রশিদ (৪০), পরকীয়া প্রেমিকা ডলি খাতুন (৩২) ও প্রেমিক রশিদের স্ত্রী আছমা খাতুন (৩০) ও স্কুলছাত্রী শারমিন খাতুন (১৪)।

পরকীয়া প্রেমের জেরে গোলযোগের জের ধরে বাড়িতেই তারা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাদেরকে চৌগাছা মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, বিবাহিত রশিদের পরকীয়া প্রেমিকার নাম ডলি। আর এই ডলির স্বামী অভিযুক্ত প্রেমিক আব্দুর রশিদের চাচাতো ভাই ও একইসাথে তার আপন শ্যালক। ডলির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মালেশিয়া প্রবাসী বলে জানা যায়।

অন্যদিকে ডলির পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রশিদ এর আগে প্রেম করে তার আপন চাচাতো বোন আছমা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিনিও কিছুদিন প্রবাসে ছিলেন। তাছাড়া আব্দুর রশিদ ও আছমা দম্পতির তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

নিজের চাচাতো ভাই ও আপন শ্যালক দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করায় আব্দুর রশিদ তার শ্যালকের স্ত্রী ডলির সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করে আসছেন। রশিদের পরকীয়া প্রেমিকা ডলি দুই সন্তানের জননী। বিষয়টি জানাজানি হলে রশিদের স্ত্রী আছমা খাতুন কিছুদিন আগে হাইপ্রেসারের ১২টি ট্যাবলেট এক সাথে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হন তিনি। এই ঘটনার পর তার স্বামী ও ডলির পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রশিদ ডলির সাথে পরকীয়া সম্পর্ক না রাখার প্রতিজ্ঞা করেন।

কিন্তু কিছুদিন পর আবারো ডলির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয় রশিদ। এরপর আবারো এই সম্পর্ক না রাখার প্রতিজ্ঞা করে রেহাই পান রশিদ ও ডলি। পাশাপাশি লাগোয়া বাড়ি ও একে অপরের নিকট আত্মীয় বলেই তারা বারবার এভাবে রেহাই পেয়েছেন বলে জানা যায়।

Loading...

কিন্তু এতকিছুর পরও রশিদ ও ডলি গোপনে নিজেদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। সর্বশেষ গত রোববার পহেলা বৈশাখের দিন আবারো রশিদ ও ডলি দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে বিষয়টি রশিদের স্ত্রী আছমার হাতে তারা ধরা পড়ে যায়। এ নিয়ে রশিদ ও আছমার মধ্যে বাড়িতে ঝগড়া-বিবাদের একপর্যায়ে রাতে রশিদের স্ত্রী আছমা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এই ঘটনা নিজের জন্য বুমেরাং হচ্ছে বুঝতে পেরে ও গ্রামের মানুষের সহানুভূতি পেতে ডলির পরকীয়া প্রেমিক রশিদও কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে উদ্ধার করে চৌগাছা হাপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে পরকীয়া প্রেম ও তার ফলে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জের ধরে রশিদ ও আছমার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় গ্রামবাসী নানা গুঞ্জন শুরু করলে রশেদের পরকীয়া প্রেমিকা ডলিও কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকেও উদ্ধার করে চৌগাছা মডেল হাসপাতালে ভর্তি করে গ্রামবাসী।

বর্তমানে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি তিনজনই একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলো, আর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ডলি কেন কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মা বলেন, রশিদের স্ত্রী-কন্যা ডলিকে ‘মারপিট করেছে’ বলে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তবে অভিযুক্ত রশিদের সাথে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে আছমার স্বামী ও ডলির পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রশিদ বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শ্যালকের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, এবার সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে এর একটা বিহিত (সমাধান) করবেন।

এ বিষয়ে রশিদের স্ত্রী আছমা খাতুন বলেন, আমার মেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে। বারবার বলা সত্বেও আমার স্বামী আব্দুর রশিদ পরকীয়ার পথ থেকে সরে না আসায় হতাশা থেকে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করি।

এদিকে একইদিন রাতে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মৃত বকুল হোসেনের কন্যা শারমিন খাতুন (১৪) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকেও গ্রামবাসী উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সে জগদীশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল হাসান জানান, আত্মহত্যার চেষ্টা করা চারজনই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।