ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৪২ হাজার সিম ও সোয়া কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেফতার ২৮

Loading...

ডেস্ক রিপোর্ট – ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার ২৬টি আবাসিক স্থাপনায় অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৪২ হাজার ১৫০টি সিমসহ প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ২৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত ১৪ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এ অভিযান চলে।
আজ (১১ নভেম্বর) বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অভিযানে সম্পৃক্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট-আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো.জহুরুল হক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে গত ১৪-১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডি, তেজগাঁও, কদমতলী, সিদ্ধিরগঞ্জ, পল্লবী ও মিরপুর এবং ২১-৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, সদরঘাট ও হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবাইল অপারেটর রবির ১৬,৮১২ টি, টেলিটকের ১৫,৯৩৯ টি, বাংলালিংকের ৬,১৭৬ টি, গ্রামীণফোনের ৩,২২৩ টি  সিমসহ সর্বমোট ৪২,১৫০টি সিম জব্দ করা হয়। এছাড়া, অবৈধ ভিওআইপি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সিম পোর্ট বিশিষ্ট সর্বমোট ১৪৮টি জিএসএম (সিমবক্স) গেটওয়ে, ২৬৭৭ টি মডেম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এ বিষয়ে জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ এর অধীনে ২৮ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিটিআরসি তার চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় বর্তমানে এ সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত সিমবক্স এর সুনির্দিষ্ট স্থান (পিন পয়েন্ট) শনাক্তকরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। যার ফলে সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে আগের চেয়ে আরও সফলতা অর্জিত হচ্ছে এবং ওই অভিযানগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়েছে যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অপারেশনে যে পরিমাণ অবৈধ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে এর মাধ্যমে দেশের বাৎসরিক ৮৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হতো।