স্বর্ণের মেলা, রাজস্ব আসবে ৪০০ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক – দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে হচ্ছে স্বর্ণের মেলা। আগামী ২৩, ২৪, এবং ২৫ জুন ৩ দিনব্যাপী মেলা ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে এনবিআর।

অবৈধ স্বর্ণকে কর দিয়ে বৈধ করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে।

রোববার (৯ জুন) জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আজগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমিতির মোট ১৮ প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ভ্যাট দেয়। এই সদস্যদের মধ্যে যাদের অবৈধ স্বর্ণ রয়েছে তারা মেলায় সরকারকে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো সোনাকে সাদা করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘মেলায় অন্তত ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব পাবে সরকার। ব্যবসায়ীরা ভরি প্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ এবং স্বর্ণালঙ্কারকে বৈধ করতে পারবে। স্বর্ণের পাশাপাশি কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড প্রতি ভরি ৬ হাজার টাকা করে কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের সদস্য (কর) কানুন কুমার বায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দেশের সকল ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ ব্যবসা করায় উৎসাহিত করতে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে যদি কোনো ব্যবসায়ী এই সুযোগ গ্রহণ না করে তবে তার জন্য আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২৮ মে মঙ্গলবার এনবিআর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে বলা হয়, কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী কর্তৃক অঘোষিত অমজুদকৃত এবং উক্ত নীতিমালার আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের ওপর প্রদেয় আয়কর কমিয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ১ হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রৌপ্যের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ডিলার স্বর্ণব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত এবং মওজুদকৃত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্য সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে কর পরিশোধ করতে হবে। এই প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের বিস্তারিত তথ্য ও কর পরিশোধের চালান সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর ব্যবসার হিসাব বইতে পৃথকভাবে মজুদ (Inventory) লিপিবদ্ধ করতে হবে। উক্ত মজুদ (Inventory) হতে বিক্রয়ের পরিমাণ (ভরি/ক্যারেট) ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্য আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আর এগুলো জমা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিবে। তাতে তারা বৈধ উপায়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণআমদানি করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত এবং কর পরিশোধিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের অর্জনমূল্য এবং অর্জনকালের ওপর আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনোরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

Loading...