উখিয়া-টেকনাফে নারী, পুরুষ, শিশুসহ আটক ৩৪

মালেশিয়া পাড়ি জমাতে রোহিঙ্গারা মরিয়া

কক্সবাজার জার্নাল রিপোর্ট :

উখিয়া-টেকনাফের সাগর উপকূলীয় জনপদ এখন সাগর পথে মানব পাচারের নিরাপদ রুটে পরিনত হয়েছে।

সোমবার ১৩ মে ভোর রাত ৩টা দিকে ইনানী পুলিশ চরপাড়া ব্রীজের নিচে নৌকায় উঠতে অপেক্ষমান ১৭জন নারী, ৪জন শিশু ও ২জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করছে।
আটককৃতদের মধ্যে বালুখালী ১নং ক্যাম্প ১৬নং ব্লকের বাসিন্দা সাবেকুন নাহার (১৬) বলেন, তারা মালেশিয়া যাওয়ার জন্য দালালের সহযোগীতায় এখান পর্যন্ত এসেছেন। তবে ঐ রোহিঙ্গা মহিলা দালালের নাম বলতে পারেননি। বালুখালী জামতলী ব্লক-১ এর বাসিন্দা হামিদুর রহমান (২০) জানায় তাদের আত্বীয় স্বজন মালেশিয়ার রয়েছে দীর্ঘ দিন রয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী মালেশিয়া পারি জমাতে দালালের কথামত চড়পাড়া ব্রীজ এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন।

এ ব্যাপারে ইনানী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সিদ্ধার্থ সাহার সাথে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন রোহিঙ্গারা স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বালুখালী ও জামতলী ক্যাম্প থেকে চড়পাড়া পর্যন্ত এসেছে। দালালের কোন খোজ খবর পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা দালালের নাম বলতে পারছে না। আটক রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ইনচার্জের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয় একটি মহল জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের সাথে যে দালাল ছিল ঐ দালালের পরিচয় এলাকার সবাই জানে। এমনকি রোহিঙ্গারাও জানে। কি কারনে দালালকে ঘটনার অন্তরালে রাখা হচ্ছে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বালুখালী ক্যাম্পের আনোয়ার মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় দালালেরা ক্যাম্পে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে মালেশিয়ায় লোকজন পাঠানোর শলা পরামর্শ করছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে মালেশিয়ায় বসবাসরত যুবক রোহিঙ্গাদের জন্য রোহিঙ্গা মেয়েদের বিয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের যাবতীয় খরচপাতি মালোশিয়া থেকে পাঠানো হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফা রোহিঙ্গা নারী পুরুষ মালেশিয়ায় চলে গেছে বলে স্বীকার করলেও তিনি নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে টেকনাফ বাহারছড়া উপকুল আবারও ১১ মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। তথ্য সুত্রে জানা যায়, দালাল চক্রের সহযোগীতায় অবৈধ পথে মালয়েশীয়া গমন করার জন্য বেশ কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান করেছে উক্ত গোপন সংবাদ পেয়ে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে ফের ১১জন নারী-কিশোরীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

জানা যায়, ১৩মে রাত সাড়ে ৯ টারদিকে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহারছড়া বড় ডেইল এলাকায় এক বসত-বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১জন নারী ও শিশুকে আটক করে। আটককৃত রা সবাই কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

তারা হচ্ছে মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী নুর বেগম (১৯), রশিদুল্লাহর স্ত্রী মিনারা বেগম (২০),মৃত দিল মোহাম্মদের স্ত্রী শুকুরা খাতুন (১৮),আব্দুল হামিদের স্ত্রী সেতেরা (১৮), ইসহাকের মেয়ে নুর ফাতেমা (১৫), হাবিবুর রহমানের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৩০), হোছন আহমদের মেয়ে ইয়াসমিন ফাতেমা (১২), হারুনের স্ত্রী কুসমিন (৩০), নুজুমা (১৭), মোচনী ক্যাম্পের ছালামত উল্লাহর মেয়ে জয়নাব বিবি (১৬) এবং থাইংখালী সি-বল্কের ফয়েজুলের মেয়ে ছমিদা (২৫)।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাত ১০টারদিকে ডেইল পাড়া এলাকা হতে ৬জন নারী ও ২জন পুরুষ মালয়েশিয়াগামীকে আটক করে।

এই অভিযান গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা স্বাপেক্ষে উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Loading...