রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

বিশেষ প্রতিবেদক ◑  কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। টহল জোরদারের পাশাপাশি ক্যাম্পে বিভিন্ন প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বিদেশিদের অবাধ যাতায়াত।

আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী দেশের সব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে কঠোরভাবে কাজ করছে। তার ধারাবাহিতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ত্রাণ, স্বাস্থ্য কর্মী বা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর পাশাপাশি জনসমাগম এড়াতে চলছে নিয়মিত সেনাটহল। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের হওয়া বন্ধ করতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নতুন ১০টি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে পুলিশ।

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনা সদস্যদের তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের সুস্থতাই আমাদের কাম্য। এজন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে আছেন সেনা সদস্যরা।‘

বৃহস্পতিবার সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর কক্সবাজার শহরের কলাতলী ও ফিশারিঘাট এলাকায় জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আলু, লবণ ও তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় ২ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলীমুল আমীন ও পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘সেনা সদস্যরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন। জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর গৃহীত এ ধরণের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।‘