কোস্টগার্ডকে হস্তান্তর

মিয়ানমার উপকূল থেকে নিখোঁজ ফিশিং বোটসহ ৩৩ জেলে উদ্ধার

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া ◑

বাংলাদেশ উপকূল থেকে নিখোঁজ দুটি ফিশিং বোট ও ৩৩ মাঝিমাল্লাসহ রাখাইন উপকূল হতে উদ্ধার করেছেন মিয়ানমার নৌবাহিনী। শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোটসহ জেলেদের আজ রোববার সকালে সেন্টমার্টিনের কাছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিকট হস্তান্তর করেছে বলে সিটুওয়ে বাংলাদেশ কনসুলেট অফিস জানিয়েছেন।

সিটুওয়ে কনসুলেট অফিসের ফেসবুকে রোববার (২৬ জানুয়ারী) দুপুর ১ টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং মিয়ানমার নৌবাহিনীর সৌজন্য সহায়তায় দিক হারানো ৩৩ জন ক্রু সদস্যসহ দুটি বাংলাদেশী ফিশিং বোটকে ফেরত প্রদান করা হয়েছে।

২০ জন মাঝিমাল্লা সহ ফিশিং বোট বাকুলিয়া -১ এবং এফবি সাজ্জাদ -১ এর ১৩ জনসহ ৩৩ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। ফিশিং বোট দুটি গত ২১ জানুয়ারী ইঞ্জিন ক্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিক হারিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে ভেসে গিয়েছিল।বাংলাদেশ দূতাবাস মিশন একদিনের মধ্যে ৩৩ জন জেলেদের উদ্ধার ও দ্রুত ফেরত কার্যক্রম অভিযান বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ মিশন ও সিটুওয়ে কনসুলেটে কর্মরতদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মিয়ানমারের সমুদ্র এলাকায় আটকা পড়া জেলেদের উদ্ধার পূর্বক দ্রুত তাদের বাংলাদেশের নিকট হস্তান্তর করায় নিখোঁজ জেলে ও বোটের মালিকের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীতাপুরিক্কা প্যাচের অদূরে চরে আটকা পড়া অবস্থায় ট্রলারটিকে দেখতে পেয়ে খবর দেয় মিয়ানমারের একটি মালামাল বহনকারী ট্রলারের সদস্যরা। সিটুওয়ে কনসুলেট অফিস মাঝিমাল্লারা সবাই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন।

কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী উদ্ধার ও হস্তান্তরকৃত ফিশিং বোট ও জেলেদেরকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানার সেন্টমার্টিনের কাছে জিরো লাইনে মিয়ানমার নৌবাহিনী মাঝিমাল্লাসহ ফিশিং বোটটি কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলেও জানা গেছে।আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় জেলে ও বোট মালিকের জিম্মায় ফেরত প্রদানের কথা রয়েছে।

আনোয়ারা উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের গহিরার ২০ মাঝিমাল্লা নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি সাগরে রওনা দেয় এফবি বাকলিয়া-১ নামের মাছ ধরার বোটটি।

গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তখন ইঞ্জিন বিকল হয়ে বোটটি সাগরে ভাসছিল। ওই সময় তাদের অবস্থান কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পশ্চিমে ছিল বলে জানানো হয়েছিল। এরপর আরো ২ দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝিমাল্লার সঙ্গে মোবাইলে সংযোগ পাওয়া গিয়েছিল।