নৌকা-ধানের শীষের ভোটযুদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট ◑ ক্ষণগণনা শেষ। আজ সোমবার সকালে শুরু হবে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ আংশিক) উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সকাল ৯ থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই আসনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই ইভিএমে ‘মক’ ভোটিং এবং ৫৩টি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইভিএম প্রদর্শন করা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে ইভিএম মেশিন ও ভোট গ্রহণ সরঞ্জাম নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় প্রিজাইডিং অফিসার ও কর্মকর্তারা কেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

উপনির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বোয়ালখালীতে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ানের গণসংযোগে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদও নৌকা প্রতীকের ক্যাম্প ভাঙচুর, মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। বিএনপিকে দায়ী করে বোয়ালখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ইভিএম মেশিন ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন। নগরীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম এবং বোয়ালখালীর কেন্দ্রগুলোর ইভিএম উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে বিতরণ করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার হাসানুজ্জামান বলেন, প্রতিকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, এপিবিএন মিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮-২০ জন সদস্য উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকবে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স। টহলে থাকবে বিজিবি।
নির্বাচনী ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ (টেলিভিশন), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন (চেয়ার), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল) ও ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত (কুঁড়েঘর)।

নগরীর মোহরা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, পূর্ব ও পশ্চিম ষোলশহর-৫টি ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে এই সংসদীয় আসন গঠিত। ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোট। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ১৯৮ ভোট। মহিলা ভোটার দুই লাখ ৩৩ হাজার ২৮৭ ভোট। এরমধ্যে বোয়ালখালী অংশে ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৪ হাজার ১৩১ ভোট। নগরীর ৫টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ৩৫৪ ভোট। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭০টি। ভোটকক্ষ রয়েছে এক হাজার ১৯৬টি। এরমধ্যে বোয়ালখালী অংশে রয়েছে ৬৯টি ভোটকেন্দ্র ও ৪১৬টি ভোটকক্ষ। নগরীর অংশে রয়েছে ১০১টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৮০টি ভোটকক্ষ।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। তবে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও পুলিশি আতঙ্কে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী-সমর্থক বাড়িছাড়া বলে দাবি করেছে বিএনপির। বিএনপি প্রার্থী দাবি করেছে, ভোটকেন্দ্রে না যেতে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের বিরুদ্ধে গত নির্বাচনের মতো গায়েবি মামলা এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ভোটার ও জনগণের মধ্যে।

বিএনপির অভিযোগ, বিএনপির ভোট ব্যাংকখ্যাত বোয়ালখালী পৌরসভা, পশ্চিম গোমদ-ী, সারোয়াতলী, করলডেঙ্গা ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। দক্ষিণ জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করা হয়েছে বোয়ালখালীতে। ভোটকেন্দ্র দখলের শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

নির্বাচনে ১৪টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৬টি মোবাইল টিম টহলে থাকবে। এছাড়াও ৫ প্লাটুন বিজিবির টহলে থাকবে। প্রতিটিমে ৩০ জন করে সদস্য থাকবে। ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

ভোট গ্রহণে ১৭০ ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ১৯৬টি ভোটকক্ষে দুইজন করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও প্রতি ভোটকক্ষে দুইজন করে পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। ১৫ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ২২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ২৩ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ।