দখলবাজি ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে-জেলা প্রশাসক

এম.এ আজিজ রাসেল •
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, কক্সবাজার সারা দেশের সম্পদ। এখানে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। পৃথিবীতে ১২০ কি.মি দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কোথাও নেই। এদিক দিয়ে কক্সবাজারবাসী গর্বিত। তাই পর্যটন এই নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। হোটেল মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকত এলাকায় দখলবাজি চলবে না। যত্রতত্র ফেলা যাবে না ময়লা-আবর্জনা। কোন দোকানের সামনে মালামাল রাখা যাবে না। এই নির্দেশনা না মানলে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। এছাড়া রাস্তায় আনাড়িভাবে গরু ও ঘোড়া চলাচল করলে মালিককে জরিমানাসহ জব্দ করে নিলামে তোলা হবে। রবিবার (১০) অক্টোবর সুগন্ধ্যা পয়েন্টে কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের হোটেল মোটেল জোনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ কমিটি আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সীমাবদ্ধতার মাঝেও পর্যটন শহরকে সাজাতে জেলা প্রশাসন নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এখানকার সব সড়কের টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সব সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে শিশু পার্ক। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাজ চলমান রয়েছে। কক্সবাজারের ছেলে-মেয়েদের জন্য ডিসি কলেজ করা হয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের মানসিক, শারীরিক ও শিক্ষা-দীক্ষায় সুস্থ করে তোলা হচ্ছে। এতে প্রতিবন্ধী শিশুরা ফিরবে স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু শহর পরিচ্ছন্ন না থাকলে কক্সবাজারে টাকা খরচ করে পর্যটকরা আসবে না। এখানকার খরচে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যাবে। তাতে ক্ষতি হবে কক্সবাজারের।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা নাগরিক জীবনের একটি সমস্যা। এতে সচেতনতা, নির্দেশনার কোনো কিছুই কাজে আসে না। হোটেল-মোটেল জোনের সৌন্দয্য বৃদ্ধিতে সকল ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। এখানে সব কিছু গড়ে উঠবে নিয়ম মাফিক ও সুশৃঙ্খল। শৃঙ্খলা যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে পৌর কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যকর কক্সবাজার শহর গড়ে তুলতে সকল নাগরিককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সচেতন হবে।

পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান আরও বলেন, পর্যটন শিল্প বিকাশে কক্সবাজার পৌরসভা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। সকলের স্বার্থে অপরিকল্পিত সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নব রূপে গড়ে তুলতে হবে নিজ প্রতিষ্ঠানকে। পর্যটরকরা এখানকার অতিথি। তাই তাদের কোনভাবেই হয়রানী করা যাবে না। তাদের মনে কক্সবাজার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা জন্মালে ক্ষতি হবে সবার।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ কমিটির সভাপতি ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আমিন আল পারভেজ, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, ফেডারেশন অব ট্যুরিজম সার্ভিসেস এসোসিয়েশন বাংলাদেশের মহাসচিব এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ কমিটির উপদেষ্টা আবুল কাশেম সিকদার, মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার বকুল ও ক্লিন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম, সৈকত পাড়া বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি শরাফত উল্লাহ বাবুল ও সৈকত পাড়া সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা এ.বি ছিদ্দিক খোকন, ফোরকান, মহসিনসহ বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, কটেজ, দোকান, ও ব্যাবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ।