ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা

ডেস্ক রিপোর্ট ◑ ঝুঁকি নিয়ে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাচ্ছেন পর্যটকরা। জাহাজে ধারণ ক্ষমতার বাইরে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী উঠানো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট রাখেন না মালিকরা। প্রতিনিয়ত টিকেট প্রতারণা এবং সিট বিড়ম্বনায় পড়ছেন পর্যটকরা। তবুও দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্নের সেন্টমার্টিনে যাচ্ছেন তাঁরা। আগন্তুক পর্যটকদের প্রলোভনে ফেলে অনেকটা বাধ্য করছে জাহাজ পরিচালকরা।

অভিযোগ উঠেছে, সেন্টমার্টিন নৌ-পথে চলাচলকারী জাহাজ কর্তৃপক্ষ কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। যে কোন মুহুর্তে আবার বড় ধরণের দুঘর্টনার আশংকাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সেন্ট মার্টিন যাত্রকালে গত সোমবার টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে ৮টি জাহাজ থেকে ২লক্ষ ১হাজার ৯শ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়,কেয়ারী সিন্দাবাদ,কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন,এলসিটি কুতুবদিয়া,গ্রীণ লাইন,দোয়েল পাখি,এমভি ফারহান,পারিজাত,আটলান্টিকসহ ৮টি জাহাজ সেন্ট মার্টিন নৌ পথে চলাচল করেন। অভিযোগ রয়েছে,কেয়ারী এবং গ্রীণ লাইন ছাড়া বাকী জাহাজগুলো ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী উঠিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করে থাকেন। পর্যটকরা জানায়,সেন্টমার্টিন নৌ-পথে চলাচলাকারী জাহাজ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছেন। জাহাজ কর্তৃপক্ষ ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সংখ্যক পর্যটক উঠিয়েই মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। সিটের কথা বলে জাহাজে উঠিয়ে সিট না পেয়ে পর্যটক এবং ক্রু‘র মধ্যে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা লেগে যায়। আশংকা করা হচ্ছে, দীর্ঘ ৩৫ কিলোমিটার নৌ-পথে পর্যটকরা যে কোন সময়ে দুঘর্টনায় পড়তে পারেন। এদিকে প্রতিটি জাহাজের নিজস্ব জেটি না থাকায় পর্যটকরা রীতিমত ভোগান্তিতে পড়ছেন।

Loading...

জাহাজঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ লক্কর ঝক্কর জেটি যাওয়ার পথেই যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে। নি¤œমানের কাঠ দিয়ে বেশ আগেই নির্মাণ করা এসব জেটিতে হাটাও মুশকিল। দ্বীপে সব জাহাজের যাত্রী নামানোর জন্য কেবলমাত্র লক্করঝক্কর একটি জেটি রয়েছে। একের পর এক জাহাজ ভীড়ে যাত্রীদের কাংখিত দ্বীপে নামিয়ে দিতেই দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায়। জেটি সংকটে জাহাজে উঠতে নামতে আগন্তুক পর্যটকরা প্রবালদ্বীপে বেড়ানোর সময়ও পাননা। এদিকে সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে জাহাজের ভারসাম্য অনেক সময় ঠিক থাকেনা।

সেন্টমার্টিনে বেড়াতে আসা কুষ্টিয়া এলাকার আব্দুল মান্নার, ঢাকা শনির আখড়া থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক মামুন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বেড়াতে আসা রেখা ও কলেজ ছাত্রী টুম্পা জানান, সিট বিড়ম্বনা এবং পদে পদে হয়রাণীর শিকার হলাম আমরা।

অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে জানিয়ে টেকনাফস্থ টুরিষ্ট পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসাইন বলেন,২/১টি জাহাজ ছাড়া আসলে বাকী জাহাজগুলো অনিয়ন্ত্রিত। সংকটের মধ্যেও তিনি পর্যটকদের সুবিধার্থে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছেন বলে জানান। অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর অপরাধে ইতিমধ্যে সব জাহাজকে জরিমানা করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন,ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাত্রী না উঠাতে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। পর্যটন ব্যবসার নামে যারা নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী উঠাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।