করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে কক্সবাজারে সেনা টহল

বিশেষ প্রতিবেদক ◑  করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলাতে বুধবার থেকে সশস্ত্রবাহিনী কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে করোনা ভাইরাস জনিত পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার কাজে সহায়তা করতে সশস্ত্রবাহিনী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে।‘

বুধবার দুপুর ১টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও তিন উপজেলা নৌবাহিনী টহলে নেমেছে। এরমধ্যে নয়টি সেনাবাহিনী দল এবং পাঁচটি নৌ দল থাকবে। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, করোনা রোধে জনসাধারণে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সারাদেশের মতো কক্সবাজারে পাঁচ উপজেলায় সেনাবাহিনী টহল নামানো হয়েছে এবং উপক‚লীয় তিন উপজেলায় নৌবাহিনীর টহল নামানো হয়েছে। আট উপজেলার মধ্যে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া টহল দিবে সেনাবাহিনী এবং উপক‚লীয় উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফে টহলে নেমেছে নৌবাহিনী

রামু সেনাবাহিনী ১০ পদাতিক ডিভিশন জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর একাদিক টিম জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে নেমেছে। প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদেও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন চেকপোষ্ট স্থাপন ও টহল কার্যক্রমের পরিধি বহুগুনে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে বর্হিরাগতদের চলাচল। সকালে সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর থেকেই সাধারণ মানুষের বাহিরে আসার প্রবণতা কমে এসেছে। রাস্তাঘাটে খুব কমসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অনেক এলাকা প্রায় জনমানব শূন্য। সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্র গুলোও জনমানব শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সকাল থেকে টহলের পাশাপাশি মাইকিং করেন সেনা সদস্যরা। এছাড়া জনসমাগম হয় এমন দোকান, হোটেল, শপিং মল বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে বাসায় থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একইভাবে নি¤œ আয় ও দরিদ্র-অসহায়দের মাঝে সরকারের তরফ থেকে খাদ্যসামগ্রীবিতরণের কথাও জানান তিনি।

পাশাপাশি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় জরুরী কাজ ছাড়া লোকজনকে ঘরের বাহিরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ভাইরাসটির প্রতিরোধে অফিসের বাইরে হ্যান্ড ওয়াশিং ব্যবস্থা. শহরের বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড ওয়াশিং পয়েন্ট স্থাপন,মাইকিং সহ প্রশাসনের টহল জোরদার করা হয়েছে।অনেকটা ফাঁকা রয়েছে শহরের হোটেল-মোটেল জোন সহ বিভিন্ন এলাকা।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে বাসায় থাকতে আহবান জানান জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।এ ছাড়া নি¤œ আয় ও দরিদ্র-অসহায়দের মাঝে সরকারের তরফ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কথাও জানান তিনি।