করোনাকালীন পুষ্টি কথা!

করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববাসী নাজেহাল। এই রোগের নাম দেওয়া হয়েছে COVID-১৯।

আমাদের দেশেও এই রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য ও চিকিৎসার জন্য চীনা চিকিৎসকরা সঠিক খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণকে ২য় স্থানে রেখেছেন।

প্রথমত, প্রতিরোধ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই, এক্ষেত্রে দুটি বিষয় মুখ্য-

১। পরিপাকতন্ত্রের অণুজীবীয় পরিবেশ ঠিক রাখা এবং

২। ইনফ্লামেশন প্রতিরোধ করা।

আমাদের অন্ত্রে যে অণুজীবগুলো বিদ্যমান তাদের কার্যক্রম চালিয়ের যাওয়ার জন্য অন্ত্রের পরিবেশ ঠিক রাখা অতীব জরুরি। তা না হলে এ অণুজীব গুলো ট্রান্সলোকেশনের মাধ্যমে রক্তে চলে আসতে পারে ফলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এই বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার খুব উপকারি ভূমিকা রাখতে পারে। প্রোবায়োটিকের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো – দই, যা ঘরেও বানানো সম্ভব। তাই প্রতিদিন ১/২ কাপ দই খাওয়া যেতে পারে। ইনফ্লামেশন রোধে এন্টি-ইনফ্লামেটরি ডায়েটের ভূমিকা অনেক।

কোষের ক্ষতি রোধে আমরা নিত্যদিনের তালিকায় যা যা রাখব তা হল-

আদা : আদা পানি, আদার রস , কাঁচা আদা কুচি খাওয়া যাবে।

৫ মিলি আদার রসের সাথে ১ চা চামচ মধু ও ২/৩ টা তুলশি পাতা খুব ভালো পানীয় হতে পারে সব বয়সী সদস্যদের জন্য ।

জিঙ্ক : প্রতিদিন ন্যূনতম ১২ মিলি গ্রাম জিঙ্ক দেহের চাহিদা তা পূরণ হতে পারে ১ মুঠো যে কোনো বাদাম, ডার্ক চকোলেট ৪ কিউব অথবা, ২০ গ্রাম মুগ ডাল।

রসুন : রসুনে আছে এলিসিন যার এন্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ ভাইরাসের আক্রমণকে মন্থর করতে সক্ষম। খালি পেটে ৩/৪ কোষ কাঁচা রসুন খান।

তুলশি পাতা : কুশকুশি কাশি প্রতিকারে ৫ টি তুলশি পাতা

সেদ্ধ গরম জল খেতে পারেন।

কালিজিরা : কালিজিরা আমরা প্রতিদিন খাবারে রাখতে পারি, শুধু ধর্মীয় দিক থেকে না, বিভিন্ন গবেষণাতেও প্রমাণিত এর ঔষধি গুণাগুণ। এর আছে antioxidant properties, এছাড়াও এটি, immunomodulator, analgesic, antimicrobial, anti inflammatory, spasmolytic, bronch odilator, hepatoprotective, antihypertensive. তাই, প্রতিদিন অন্তত ৫ গ্রাম (১ চা চামচ) কালোজিরা খাওয়া উচিত।

ভিটামিন সি : এই ভিটামিন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ মিলি গ্রামই যথেষ্ট। প্রয়োজনের অধিক ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে পাতলা পায়খানা হতে পারে । তাই প্রতিদিন ১ টা কমলালেবু, ১টা সবুজ আপেল অথবা, যে কোনো টক ফল ১৫০ গ্রাম গ্রহণ করলেই চলবে।

নারকেল তেল : যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ নেই তারা ১০ মিলি ভোজ্য নারকেল তেল গ্রহণ করুন।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড : বাসায় ভালোভাবে রান্না করা যে কোনো মাছ খেতে হবে প্রতিদিন একবেলা অন্তত তবে তা সামুদ্রিক হলে ভালো হয় । তবে যারা জোগাড় করতে পারছেন না তারা ১ মুঠো অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পারেন। সবচেয়ে সহজলভ্য হলো তিসি। ১ চা চামচ তিসি শুকনো ভাজা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস।

টমেটো : এতে আছে লাইকোপেন যা antioxidant তাই ইনফ্লামেশন রোধে বিশেষ উপকারি। টমেটো কাঁচা বা স্যুপ করে খাওয়া যাবে।

সজনে পাতা বা শাক : ইনফেকশন প্রতিরোধে সজনে পাতা সেদ্ধ গরম জল বা স্যুপ তা না হলে দেশীয় পন্থায় শাক হিসেবে খান।

এবার বলি চিকিৎসা চলাকালীন পুস্টির ভূমিকা। সারা বিশ্ব প্রতিকার করছে আমরা এখনো কেবল প্রতিরোধেই আটকে আছি। তাই চিকিৎসায় কি কি করতে হবে তাই জানা দরকার।

যারা মৃদু থেকে মাঝারি লক্ষণে আক্রান্ত মুখে খেতে পারেন তারা হসপিটাল বা বাসা যেখানেই থাকুন না কেন ক্যালরি বহুল ও হাইপ্রোটিন ডায়েটে থাকবেন।

ক্যালরি দিতে হবে ২৫-৩০ কিলো ক্যালরি প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য আর প্রোটিনের পরিমাণ হবে ১.২-২.০ গ্রাম পর্যন্ত । প্রচুর তাজা ফল ও সবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায় । মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা হতে পারে প্রোটিনের ভালো উৎস।

যদি পাতলা পায়খানা থকে তবে জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট করতে হবে ও আর এস, ডাবের পানি থেকে। তখন টক ফল বা ফলের রস খাওয়ানো যাবে না। যারা ইন্টেন্সিভ কেয়ারে থাকবেন তাদের টিউবের মাধ্যমে খাওয়াতে হবে।

কো-মরবিডিটি মাথায় রেখে ক্যালরি, প্রোটিনের সমতা রাখতে হবে। যে কথাগুলো লিখলাম তা Chines Hand Book of COVID-১৯ Prevention and Treatment-এর আলোকে। তাই এসময় আমাদের যথেষ্ঠ সচেতন ও যত্নবান হতে হবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম। তাহলেই আমরা জটিলতা এড়াতে এসব খাদ্য উৎপাদন এখনি খাওয়া দরকার।

লেখক পরিচিতি ◑

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
বি এস সি নার্সিং(চবি) এম পি এইচ ইন নিউট্রিশন(ইবি)
নার্সিং কর্মকর্তা
২৫০শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার।