এক নৌকা রোহিঙ্গা পাচারে ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা

কালেরকন্ঠ ◑

এক নৌকাতেই ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কারবার। একদম কাঁচা টাকা। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ার তালিকাভুক্ত মানব পাচারকারি বিএনপি নেতা আবদুল আলী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ১৩৮ জন রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে উক্ত অংকের কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে।

গতকাল সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ সন্নিহিত সাগরবক্ষ থেকে উদ্ধার করা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের দল জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে মালয়েশিয়া যাবার জন্য নিয়েছে পাচারকারিরা। আবার এর বাইরে আনুসাঙ্গিক খরচও নিয়েছে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে। জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে ১৩৮ জনের নিকট থেকে আবদুল আলী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নেয় ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সিন্ডিকেট প্রধান আবদুল আলী হচ্ছেন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছেন মানব পাচার ও ইয়াবা কারবারের সাথে। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। দেড় মাস আগে আবদুল আলী ২ হাজার ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পিতার অনুপস্থিতিতে পুত্র সাইফুল ইসলাম এখন পাচার কাজের দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের ৫ টি নৌকা নিয়েই পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুত্র সাইফুল সহ মহিউদ্দিন ও শহীদুল্লাহ নামের মোট তিন পুত্র সহ ২৫/৩০ জনের সিন্ডিকেট।

মানব পাচারের বিষয়টি সোমবার রাতে বাহারছড়া পাঁড়ির পুলিশকে অবহিত করে স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যরা। একারণে পাচারকারি দল তাদের প্রতি ক্ষীপ্ত। গতকাল সন্ধ্যায় নোয়াখালী পাড়ার বাসিন্দা মালয়েশিয়া ফেরৎ আরেক পাচারকারি মমতাজ সওদাগরের পুত্র ইয়াছিন এবং মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র জাকের হোসেন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।